গতানুগতিক শিক্ষা পদ্ধতি খুব দ্রুত গতিতে মানব সম্পদের উন্নতি ঘটাতে ব্যর্থ হচ্ছে।এত শ্লথ গতিতে চ'লে উন্নত দুনিয়ার সাথে সমানতালে পা মিলিয়ে চলা সম্ভব নয়।আর তাই উন্নত দুনিয়ার থেকে এখনো আমরা পিছিয়ে রয়েছি।এই পিছিয়ে থাকাটা অসহ্য।দেশে সম্পদের অভাব নেই।অথচ মানুষ অনাহারে, অশিক্ষিত থাকে।দেশনেতাদের মধ্যেও কোন হেলদোল দেখিনা।দেশ উচ্ছন্নে যাচ্ছে, মানুষ খাদ্য পাচ্ছে না,শিক্ষা পাচ্ছে না।অথচ দেশনেতাদের তা নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই, তারা কতই না নিশ্চন্ত।রাষ্ট্রচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, অথচ রাষ্ট্র নিয়ে, রাষ্ট্রের মানুষের উন্নতি অগ্রগতি নিয়ে তাদের মাথায় কোন চিন্তা নেই।অথচ অগ্রগতির নব নব চিন্তা ছাড়া সামনে এগোনো সম্ভব নয়।
মানুষ মঙ্গল গ্রহে পৌঁছাতে গেল,অথচ এদেশের একটা বড় অংশের মানুষ রাস্তার পাশের ব্যানার পোস্টারে কি লেখা আছে পড়তে পারে না।আর তা নিয়ে কারোর কোন মাথাব্যথা নেই।বরং এদেশের শাসক গোষ্ঠীর ভাবসাব দেখে মনে হয়,তারা যেন তাই ই চায়, কিছু মানুষ অশিক্ষিত থাকুক,মূর্খ থাকুক, দরিদ্র থাকুক।কিছু মানুষ অযোগ্য থাকুক, কিছু মানুষ পশ্চাদপদ থাকুক।ওরা থাকুক অন্ধকারে, আর আমরা আলোতে।এই মানসিকতা যেন এদেশের রক্তের ধারায় মিশে আছে।বেশিরভাগ মানুষ কে নিচুতলায় রেখে অল্প কিছু মানুষ উপরতলায় বসে থেকে রাষ্ট্রের যত সুযোগ সুবিধা স্বাচ্ছন্দ্য ভোগ করবে।এই মানসিকতাই এদেশে বর্ণবাদের মত নিকৃষ্ট প্রথার জন্ম দিয়েছে।মানুষের বর্ণ নিয়ে এরা যতটা চর্চা করেছে, মানুষ নিয়ে এরা ততটা চিন্তা করেনি।ঠিক এই কারণেই সাধারণ মানুষের শিক্ষা নিয়েও এদের মধ্যে কোন গঠনমূলক চিন্তাভাবনা দেখা যায় না।এরা বরং সাধারণ মানুষের শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করবে, অথচ সাধারণ মানুষকে উপযুক্ত সুশিক্ষা দেওয়ার কথা মাথায় আনবে না।
এই দুনিয়া এগিয়ে গেলেও এদেশের মানুষ এখনো পড়ে আছে অন্ধকারে।ইউরোপ এগিয়ে চলেছে, আমেরিকা এগিয়ে গেছে,চীনও ছুটছে দুরন্ত গতিতে, অথচ আমরা এখনো নর্দমায় গড়াগড়ি খাচ্ছি।
গণশিক্ষায়,গণপ্রযুক্তিতে চীন এগিয়ে গেছে, সমগ্র দেশের জনগনকে আধুনিক প্রযুক্তিতে শিক্ষিত করে উপযুক্ত করে গড়ে তুলে,চীন তার জনসম্পদকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের বাজার দখল করে চীন আজ বিশ্ব অর্থনীতির মহাশক্তি হয়ে উঠেছে, আর সেই অর্থনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে চীন নিজ দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি পরাক্রান্ত বিশ্বশক্তি হয়ে উঠেছে।আমাদের পাশের রাষ্ট্র চীনকে দেখেও কি আমরা কিছু শিখতে পারি না ? না কি চীনের দিকে তাকালেও জাত যাবে ?এদের মাথায় যে কি আছে, আর মনে যে কি আছে বোঝা দায় ! কি মাথার ঘিলু, আর কি মনমানসিকতা নিয়ে যে এরা রাজপদে আসীন হয় তা বুঝে পাই না।কিসে যে এদের টনক নড়বে তা বোঝা ভার।
সত্যি সেলুকাস, কি আশ্চর্য এই দেশ !
শিক্ষাকে শুধু শিশু শিক্ষার ধারণার মধ্যে আটকে রাখলে চলবে না,শিক্ষাকে ছড়িয়ে দিতে হবে আমজনতার মধ্যে, অতি দ্রুত। শিক্ষাকে শুধু স্কুল কলেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না,স্কুলকলেজের প্রথাগত শিক্ষার বাইরেও শিক্ষাকে সমাজের উঠোনে এনে হাজির করতে হবে,অতি দ্রুত।নইলে মানবসম্পদের দ্রুত বিকাশ সম্ভব নয়।শিশু শিক্ষালাভ করে কবে যোগ্য মানুষ হয়ে উঠবে সেদিন দেশ এগোবে,ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করে থাকো।আর শিশু যদি উপযুক্ত মানুষ না হতে পারলো,তাহলে তো গেলো।
ততদিনে সমাজের যে বিপুল সংখ্যক অশিক্ষিত, অদক্ষ মানবগোষ্ঠী তা অযোগ্য, অদক্ষ হয়ে পড়ে থাকলো,তাদেরকে রাষ্ট্রের উন্নয়নের কাজে সামিল করা গেল না,সেটা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রেরই অযোগ্যতা ও অদক্ষতা,যা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের শাসকদের দায়িত্ব হীনতা, রাষ্ট্রের প্রতি অবহেলা ও তাদের পরিকল্পনা রচনার অক্ষমতাকেই তুলে ধরে।
রাজনীতিকরা তথা রাজনৈতিক দলগুলি কি করে ভোট সংগ্রহ করতে হয় তা বেশ ভালোই বোঝে,অর্থাৎ তারা মোটেই অবোধ অবুঝ নয়।তারা ভালোই বোঝে,তবে নিজের স্বার্থ ও দলের স্বার্থ, দেশের স্বার্থ বা মানুষের স্বার্থ নয়।যদি দেশের বা দেশের মানুষের স্বার্থের প্রতি তাদের আগ্রহ থাকতো তাহলে সেই একই কৌশল তারা দেশের আমজনতাকে শিক্ষিত করার কাজে,দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের কাজে প্রয়োগ করার পরিকল্পনা রচনা করতো।ঠিক যে কায়দায় পাড়ার মোড়ে মোড়ে মাইক টাঙিয়ে বক্তৃতা দিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে বোঝায় যে কেন তাদের ভোট দেওয়া উচিত, ঠিক একই কায়দায় আমজনতাকে শিক্ষাও দেওয়া যায়।তারা ঘরে বসে কাজ করতে করতে,দোকানে বসে চা খেতে খেতে, ক্ষেতে কাজ করতে করতে শিক্ষালাভ করতে পারে।
কে দেবে এই শিক্ষা ?
শিক্ষক, ব্যাংককর্মী,কৃষি বিভাগের কর্মী,প্রযুক্তি দপ্তরের কর্মী সপ্তাহে একদিন দু'ঘন্টা ক'রে ফিল্ডে(সমাজে) সময় দিয়ে তাদের স্ব স্ব দপ্তরের কাজকর্ম সম্পর্কে মানুষকে বোঝাতে পারে,সচেতন করতে পারে, শিক্ষিত করতে পারে।সরকারের সদিচ্ছা থাকলে খুব সুন্দরভাবে এমন কাজ করা যায়।
তাছাড়া "শিক্ষা উৎসব" বা "শিক্ষা মেলা"র আয়োজন করা যেতে পারে। ২ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকা নিয়ে মাসে একটি করে শিক্ষা মেলার আয়োজন করা যায়।এ ধরনের উদ্যোগ জনশিক্ষার দ্রুত প্রসার ঘটাতে খুবই সাহায্য করতে পারে। শিক্ষা মেলায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের স্টল থাকবে, যেখানে আমজনতা বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষালাভ করতে পারবে, খুব সহজে এবং হাতেকলমে।এই ধরনের শিক্ষা যদি বাস্তব জীবনে মানুষের কাজে লাগে বা আর্থিক লাভ দেয়, তাহলে মানুষ অবশ্যই এরকম শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহ দেখাবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন