জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তা(সমাজস্বাস্থ‍্য)

এদেশের জনস্বাস্থ্যকে কিভাবে আরো বেশি উন্নত করা যায় সে ব‍্যাপারে আমি এখানে কিছু আলোচনা করবো, বর্তমান অবস্থা নিয়ে সমালোচনায় না গিয়ে বরং বর্তমানে জনস্বাস্থ্য পরিষেবা যেটুকু আছে তার উপর ভিত্তি করে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আপামর মানুষের মধ‍্যে আরো কতটা ছড়িয়ে দেওয়া যায় সেটাই আলোচনা করবো।

        এদেশে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার একেবারে নিম্নতম ধাপে আছে গ্রামীণ স্বাস্থ‍্যকেন্দ্রগুলি।দুপুর দুটো পর্যন্ত এগুলি খোলা থাকে,ডাক্তার সব দিন থাকেন না, জরুরি পরিষেবা গুলিও এখানে পাওয়া যায় না,অর্থাৎ এককথায় বলা যায়, উপযুক্ত প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা এখান থেকে মেলে না।কোনমতে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু বা আপাতত ঠেকা দেওয়ার মত কিছু চলতে পারে, তাও সব ক্ষেত্রে নয়।
     স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলিতে ডাক্তার ও স্বাস্থ‍্যকর্মীরা আসেন,স্বাস্থ‍্যকেন্দ্রে বসেই কিছু রোগী দেখে বাড়ি চলে যান।এই প্রক্রিয়াটাকেই যদি একটু পরিবর্তন করা যায় ?সেটা এইরকম-
         ডাক্তার ও স্বাস্থ‍্যকর্মীদের কয়েকজন মিলে একটা "ফিল্ড ওয়ার্ক টীম" গড়ে তোলা হবে।এই টিম স্বাস্থ‍্যকেন্দ্রে বসে না থেকে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে, এবং মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি করবে।বেশি নয়,প্রতিদিন দশটি বাড়িতে ফিল্ড ওয়ার্ক করুক।আর দুই একজন স্বাস্থ‍্যকর্মী স্বাস্থ‍্যকেন্দ্রেই বসে থাকুক স্বাস্থ‍্যকেন্দ্রকে সামাল দেওয়ার জন‍্য।ফিল্ড ওয়ার্ক টিমের সুন্দর দেখে একটা নামকরণ করা যেতে পারে।
এবার আসি,সরকারি স্বাস্থ্যপরিষেবার এই সংস্কারের ফল কি হবে ?
১. মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরো বেশি সচেতনতা বাড়বে।ফলে রোগীর সংখ্যা কমবে।ফলে সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উপর চাপ কমবে।
২. অনেক অথর্ব বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও অসুস্থ মানুষ যাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে ডাক্তার পর্যন্ত যেতে অসুবিধে তারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।
৩. স্বাস্থ্য সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে অনেকে হঠাৎ করে বড় রকমের অসুস্থ হয়ে বিপদে পড়েন, যেমন,ব্রেন স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক ইত্যাদি।নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হলে এর সংখ্যা অনেক কমবে।
-----জননিরাপত্তা(সমাজস্বাস্থ‍্য)-----
এবার আসি জননিরাপত্তার কথায়।যে সমাজে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই সে সমাজ সুস্থ নয়।একটা অসুস্থ সমাজে মানুষের জীবনের কোন নিরাপত্তা থাকে না।
একটা সুস্থ সমাজ, আর একটা অসুস্থ সমাজের মধ্যে অনেক ফারাক।
একটা সুস্থ সমাজের মানুষ, আর একটা অসুস্থ সমাজের মানুষের জীবনযাপন ও জীবনাচরণেও অনেক ফারাক।
সুস্থ সমাজ মানুষকে সুখী ও সমৃদ্ধ করে, অসুস্থ সমাজ মানুষকে দূষিত ও বিপন্ন করে।
সমাজের মধ্যে দুষ্কৃতী ও দুষ্ট লোকের আধিক্য সমাজকে দূষিত ও অসুস্থ করে তোলে।অন‍্যায়,অনৈতিকতা ও দুষ্কর্ম তখন সমাজের নীতি হয়ে ওঠে,অপরাধ বৈধতা পায়,আর অপরাধীরা হয়ে ওঠে সমাজের ভাগ‍্যবিধাতা,সমাজের শাসক,বিচারক ও নীতিনির্ধারক।সাধারণ, নিরীহ, শান্তিপ্রিয় মানুষের জীবন হয় ওষ্ঠাগত,তাদের কাছে সমাজ হয়ে ওঠে নরকসম।এরকম সমাজে বাস করা আর নরকে বাস করা একই কথা।এটাই হল অসুস্থ সমাজ।
বর্তমান সময়ে সমাজ অসুস্থ হয়ে ওঠার সবচেয়ে বড় কারণ হল ভোটের রাজনীতি।নোংরা ও নিকৃষ্ট ভিলেজ পলিটিক্স,নীতিচরিত্রহীন নেতা, তাদের চামচা, পোষা গুন্ডারাই সমাজে ঘুঘু চরিয়ে দিচ্ছে।
এসব সম্ভব হচ্ছে দেশের রাজনৈতিক সিস্টেম, পুলিশ প্রশাসন, রাজনীতি সবকিছুর মিথষ্ক্রিয়ায়।
ঠিক এই জায়গাটাতেই সংস্কার প্রয়োজন।বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসন যেভাবে কাজ করছে, সেটা পাল্টাতে হবে।পুলিশকে থানা বা ফাঁড়িতে বসিয়ে রাখলে হবে না।পুলিশ ডিউটি করবে সমাজের মধ্যে, মানুষের মধ্যে।এক একদিন এক একজন পুলিশ এক একপাড়ায় ডিউটি করবে।পুলিশ সমাজের মধ্যে মানুষের উপর নজর রাখবে যাতে কেউ অপরাধ অন‍্যায় করতে না পারেযাতে কেউ কারো সাথে গন্ডগোল করতে না পারে, সমাজে যাতে কোন অশান্তি না হয়।মোটকথা পুলিশ সমাজের উপর নজরদারি চালাবে, সমাজে কোন সমস্যা তৈরি হতে দেবে না,নিজে সামাল দিতে না পারলে উপর মহলকে তলব করবে বা সমস্যা তৈরি হলে সগোচর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সঠিক সত‍্য রেকর্ড করবে।এইভাবে অপরাধ ঘটার আগেই পুলিশ তা রোধ করতে পারে।তাহলে সমাজে অপরাধী বস্তুটাই তৈরি হয় না।(চলবে)


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ব্লগের দেওয়াল

এই ব্লগের লেখাগুলি পড়তে নিচের তালিকার শিরোনামগুলিতে ক্লিক করুন। এই ব্লগের যাবতীয় লেখাগুলির তালিকা নিচে দেওয়া হল---- ১.  লিভার ভালো রাখত...